Published : 09 Jul 2026, 01:01 AM
চেক প্রজাতন্ত্রে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে এবং সংবাদমাধ্যমগুলোর ওপর সরকারি নিয়ন্ত্রণ কমানোর দাবিতে সাংবাদিকরা এক দিনের ধর্মঘট পালন করেছেন। এই ধর্মঘটটি চেক টেলিভিশনের (সিটি) এবং চেক রেডিওর (সিআরও) অর্থায়ন ব্যবস্থা সরাসরি সরকারের নিয়ন্ত্রণে আনার পরিকল্পনা বাতিল করার দাবিতে করা হয়। ধর্মঘটটি রাজধানী প্রাগে চেক টেলিভিশনের প্রধান কার্যালয়ের সামনে অনুষ্ঠিত হয়। এর আগের দিনও একই দাবিতে বড় আকারের সমাবেশ ঘটেছিল। সাম্প্রতিক সময়ে, চেক প্রজাতন্ত্র সরকার দেশটির পাবলিক মিডিয়ার স্বাধীনতাকে হুমকির মুখে ফেলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এই প্রেক্ষাপটে নাগরিক সমাজ এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে যে প্রধানমন্ত্রী আন্দ্রেজ বাবিসের সরকার গণমাধ্যমের ওপর রাজনৈতিক কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করতে চাইছে।
দীর্ঘ আলোচনার পর গত সপ্তাহে বাবিসের মন্ত্রিসভা পাবলিক মিডিয়ার অর্থায়নের বিষয়ে একটি সিদ্ধান্ত অনুমোদন করে। এই সিদ্ধান্তে বলা হয়েছে যে, চেক টেলিভিশন ও রেডিও এখন থেকে লাইসেন্স ফি-এর পরিবর্তে সরাসরি রাষ্ট্রীয় বাজেট থেকে অর্থ পাবে, এবং এই অর্থায়ন ২০০৮ সালের স্তরে নামিয়ে আনা হবে। সরকার দাবি করেছে যে এই নতুন আর্থিক ব্যবস্থা দরিদ্র পরিবারগুলোর জন্য আরও ন্যায্য হবে এবং গণমাধ্যমগুলোকে আরও দক্ষতার সাথে কাজ করতে উৎসাহিত করা যাবে। তবে সমালোচকরা মনে করছেন, এই পরিবর্তন সরকারের সম্প্রচারমাধ্যমগুলোর ওপর হস্তক্ষেপের ক্ষমতা বৃদ্ধি করবে। তারা সাম্প্রতিক বছরগুলোতে হাঙ্গেরি ও স্লোভাকিয়ার কঠোরপন্থী সরকারগুলোর পদক্ষেপের সঙ্গে এই পরিকল্পনার তুলনা করেছেন। রিপোর্টার্স উইদাউট বর্ডারস এবং অন্যান্য গণমাধ্যম পর্যবেক্ষকরা এই পদক্ষেপের তীব্র সমালোচনা করে রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যমগুলোর ওপর এর সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
ধর্মঘট চলাকালীন বেশ কিছু অনুষ্ঠান এক মিনিট দেরিতে শুরু হয় এবং পর্দায় কাউন্টডাউন ঘড়ির কাঁটা দেখানো হয়। এছাড়া সাংবাদিকরা কালো পোশাক পরে ‘আমরা রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম নই’ এবং ‘স্বাধীনতা মানে খরচ নয়’—এই স্লোগান সম্বলিত ব্যানার নিয়ে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন। এই নতুন পরিকল্পনার ফলে আগামী বছর গণমাধ্যমগুলোর বাজেটে প্রায় পনেরো শতাংশ হ্রাস পেতে পারে, যা শত শত কর্মী ছাঁটাই এবং অনেক অনুষ্ঠান বন্ধ করার আশঙ্কা তৈরি করেছে বলে পাবলিক রেডিও ও টিভির পরিচালকদের উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।।